বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের এমন মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে, যা অধিকাংশ ট্রেডারের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে বিশ্লেষণ করলে এই ধরনের প্রবণতার কারণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব। বুধবারের পরিস্থিতির মূল জটিলতা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনের ফলাফলের ব্যাপারে কিছু অস্পষ্টতা। একদিকে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক যা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিগত ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করে; অন্যদিকে, জুলাই মাসের মুদ্রাস্ফীতির হার পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। একদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি কমেছে, যা সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে; আবার অন্যদিকে, এই হ্রাসের হার ছিল মাত্র 0.1% এবং আগস্টে মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 3.4% মুদ্রাস্ফীতির হারকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে—সে ব্যাপারে ট্রেডাররা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মুদ্রাস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফেডারেল রিজার্ভ মূল সুদের হার বাড়াবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। দিনশেষে মার্কিন ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি বা কমেনি। এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও অস্থিরতার মাত্রা বর্তমানে খুবই কম এবং ট্রেডাররা ট্রেড করার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়া থেকে সামান্য ডেভিয়েশনসহ বাউন্স করে 25 পিপস বৃদ্ধি পায়; তবে এই পেয়ারের মূল্য নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় এবং সামগ্রিকভাবে মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রাও কম ছিল। দিনের শেষে, এই পেয়ারের মূল্য পুনরায় 1.1527–1.1531 এরিয়ায় ফিরে আসে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলটি থেকে বের হয়ে এসেছে, যেখানে মূল্য এক মাস অবস্থান করেছে এবং এখন একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন আমরা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি। তবে গত এক সপ্তাহজুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা কমেছে এবং ট্রেডারদের মধ্যে ইউরো ক্রয় অব্যাহত রাখার কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়া থেকে নতুন করে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে শিল্প উৎপাদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স' (PPI) বা উৎপাদক মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা এই প্রতিবেদনগুলোর কোনোটিকেই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি না; মার্কেটেও স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে বর্তমানে সক্রিয়ভাবে ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ট্রেডারদের মধ্যে অনাগ্রহ রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।