বুধবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে মাত্র একটিই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য আজ জুলাই মাসের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে যে, দেশটিতে কোর ইনফ্লেশন বা মূল মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে 2.9-3.0%-এ পৌঁছাতে পারে, যেখানে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার কমে 2.5%-এ নেমে আসতে পারে। আমাদের মতে, মূল মুদ্রাস্ফীতিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ; তাই এর বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। ইউরোজোনে আজ জুলাই মাসের মুদ্রাস্ফীতির দ্বিতীয় বা সংশোধিত ফলাফল প্রকাশিত হবে, তবে তা ট্রেডারদের খুব একটা আকৃষ্ট করবে বলে মনে হয় না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না।

বুধবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ক্রিস্টিন লাগার্ডের ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় G7-ভুক্ত দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসিবি ইতোমধ্যেই মুদ্রানীতি কঠোর করেছে। তবে ইসিবি এখানেই থেমে থাকতে চায় না; ভোক্তা মূল্য সূচক আরও বৃদ্ধি পেলে তারা সুদের হার আরও এক বা দুইবার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তাই, ইসিবি প্রেসিডেন্টের মন্তব্য থেকে ট্রেডাররা ধারণা পেতে পারেন যে, সেপ্টেম্বরে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে কি না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরান ওয়াশিংটনের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে ধরে নেয়া যায়। সোমবার ইরান ওয়াশিংটনকে এও সতর্ক করে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া হলে তারা নিজস্ব উপায়েই প্রণালীটি 'মুক্ত' করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বাড়ছে।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের আবারও বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ খুব বেশি উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। আজ ইউরো 1.1584-1.1594 এরিয়ার মধ্যে এবং পাউন্ড স্টার্লিং 1.3456-1.3476 এবং 1.3587-1.3598 এরিয়ার মধ্যে ট্রেডিং করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আমরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরো ও পাউন্ডের আরও মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি, এবং শুধুমাত্র এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের ফলাফল বা ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।