যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের বেশ নিচে নেমে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1365-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, এই পেয়ারের দরপতনের সম্ভাবনা সীমিত করেছিল। এই কারণে আমি ইউরোর সেল পজিশন ওপেন করিনি। 1.1365-এর লেভেলের দ্বিতীয় টেস্টের ক্ষেত্রে বাই সিগন্যালের পরিকল্পনা 2 বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়া যায়, যার ফলে এই পেয়ারের মূল্য 15 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গতকালের মন্তব্য ইউরোর সার্বিক পরিস্থিতি কোনো উন্নতি ঘটাতে পারেনি। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বন্ডের ক্রমবর্ধমান ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হার এবং মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বেশ স্পষ্টভাবেই বক্তব্য দিয়েছিলেন, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। মার্কিন ডলারভিত্তিক পজিশন ওপেন করার প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের বন্ডের মধ্যে ইয়েল্ডের বিদ্যমান ব্যবধান—এসব বিষয়ই মূলত মার্কেটে প্রভাব ফেলেছে এবং EUR/USD-এর ওপর চাপ বজায় রেখেছে। আমার মতে, মূল সমস্যাটি লাগার্ডের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নয়, বরং ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই মার্কিন ডলারকে অধিক শক্তিশালী অ্যাসেট হিসেবে বিবেচনা করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ইউরোজোনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের ইয়েল্ড দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসিবি প্রধানের যেকোনো বক্তব্য ইউরো ক্রয়ের কারণ হওয়ার পরিবর্তে কেবলই অপ্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবেই গণ্য হবে।
আজও ইউরোজোন থেকে কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে না; টানা বেশ কয়েক দিন ধরেই ট্রেডাররা বিশ্লেষণ করার মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূচক বা অর্থনৈতিক প্রতিবেদন পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রতিবেদন পরিবর্তে নীতি-নির্ধারকদের বক্তব্যের দিকে মনোযোগ সরে এসেছে—বিশেষ করে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মন্তব্যের দিকে; কারণ গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদনের অনুপস্থিতিতে এই মন্তব্যগুলোই এই কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিংয়ের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে। আজ বুন্ডেসব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম নাগেল এবং ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। লাগার্ডের কাছ থেকে মৌলিকভাবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার আশা আমি করছি না—ট্রেডাররা তাঁর নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত। তিনি সম্ভবত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না দিয়ে সতর্ক ও সাধারণ বক্তব্যই প্রদান করবেন। তবে আমি নাগেলের বক্তব্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেব। ইসিবির গভর্নিং কাউন্সিলে তিনি প্রথাগতভাবেই কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণ করে থাকেন। আজ যদি তিনি আবারও হকিশ বা কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন, তবে তা ট্রেডারদের মনে করিয়ে দেবে যে ইসিবির সব সদস্যই মুদ্রানীতি নমনীয় করার পক্ষে নন। এটি এই পেয়ারের সেলারদের কিছুটা সংযত করতে পারে এবং ইউরোর দরপতনের গতি কমিয়ে আনতে পারে—এমনকি যদি তা তাৎক্ষণিকভাবে মার্কেটের সার্বিক প্রবণতাকে পুরোপুরি বদলে নাও দেয়।
সামগ্রিকভাবে, ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট এখনও মার্কিন ডলারের পরিস্থিতি এবং আটলান্টিকের উভয় প্রান্তের সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ বিষয়ক প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মন্তব্যই এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের দৈনিক মুভমেন্ট নির্ধারণ করবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1391-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1368-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1391-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র ইউরোপীয় নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1355-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1368 এবং 1.1391-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1355-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1334-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজকের বক্তব্যে লাগার্ড ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1368-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1355 এবং 1.1334-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।
