বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও কার্যকর কারণে প্রভাবে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। প্রথমত, ফেডারেল রিজার্ভ কারেন্সি মার্কেটকে ততটা হকিশ বা কঠোর অবস্থান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে যতটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল। ফেড ২০২৬ সালে সুদের হার বাড়াতে প্রস্তুত বলে মনে হলেও, প্রতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, জার্মানি, ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ জিডিপি প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল একতরফাভাবে ইউরোর পক্ষে কাজ করেছে। যদি এগুলোর কোনো একটি প্রতিবেদনের ফলাফলও মার্কিন ডলারের পক্ষে যেত এবং দুইটি ইউরোর পক্ষে যেত, তবু হয়তো ইউরোর মূল্যের এতটা শক্তিশালী উত্থান দেখা যেত না; কিন্তু তিনটি সূচকের ফলাফলই ইউরোর পক্ষে এসেছে। তৃতীয়ত, জার্মানিতে জুলাই মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আজ প্রকাশিতব্য ইউরোজোন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা যেতে পারে। ফলে ইসিবি সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, যেখানে ফেড এখনও পর্যবেক্ষণ করছে, অপেক্ষা করছে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুদ্রাস্ফীতি কমার প্রত্যাশা করছে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, এই পেয়ারের দুটি কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, যেগুলো নতুন ট্রেডাররা কাজে লাগাতে পারত। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1474 এরিয়া ব্রেক করায় লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যায়। এক ঘন্টার মধ্যে মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়ায় পৌঁছে যায়, যেখানে ট্রেডাররা টেক প্রফিট সেট করতে পারত। ওই এরিয়া থেকে বাউন্সের ফলে শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়, কিন্তু এই পেয়ারের যথেষ্ট দরপতন ঘটেনি, ফলে ট্রেডটি ব্রেকইভেনে ক্লোজ হয়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলটি অতিক্রম করেছে, যেখানে মূল্য এক মাস অবস্থান করেছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য আত্মবিশ্বাসীভাবে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। সম্প্রতি মার্কেটের ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা প্রায় সব ইতিবাচক কারণ উপেক্ষা করেছে, তাই এখন একটি "কনসোলিডেশন" শুরু হতে পারে এবং এই পেয়ারের এক্সচেঞ্জ রেট ফেয়ার ভ্যালুতে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার, যেহেতু এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, তাই নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1461-1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া ব্রেক করলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে; যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, এবং 1.1745-1.1754। শুক্রবার ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং যদি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পায় তবে ইসিবি দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এক্ষেত্রে ইউরোর মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।