সোমবার প্রায় 2% দরপতনের পর জ্বালানি তেলের মূল্য সাময়িকভাবে স্থিতিশীল হলেও পরবর্তীতে তা আবারও কমতে শুরু করে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় $100-এ এবং ডব্লিউটিআই-এর দর $89-এর নিচে অবস্থান করছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের ফলে মার্কেটে চাপ সৃষ্টি হয়েছে—উভয় বিষয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কমোডিটি মার্কেটের টানটান পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়ে আসছে। এতে এশীয় শোধনাগার ও জ্বালানি ভোক্তারা লাভবান হচ্ছে; অন্যদিকে, ঘাটতির আশঙ্কায় যারা তেলের মজুদ বাড়িয়েছিল, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরবরাহের পরিমাণ বাড়ছে: হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও বেশি ট্যাঙ্কার এই ঝুঁকিপূর্ণ পথটি পাড়ি দিতে আগ্রহী হচ্ছে। কুয়েত জানিয়েছে যে তাদের উৎপাদন যুদ্ধের আগের মাত্রার প্রায় ৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইরাক হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া করছে।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কেটে অংশীদারিত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে সৌদি আরামকো এশীয় ক্রেতাদের জন্য তাদের প্রধান পণ্য আরব লাইট গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপটি কেবল মূল্যের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি আর ঘাটতিজনিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তেল বিক্রির আশা করছে না—আর এই বিষয়টি বুল বা ক্রেতাদের বিপক্ষে কাজ করছে।
তবে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের পরিস্থিতির মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়লেও তা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সমস্যার সমাধান করতে পারছে না, কারণ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ এখনও সীমিত।
ইয়েমেনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। রিয়াদ সমর্থিত বাহিনী হুথিদের কাছ থেকে লোহিত সাগরের বন্দর 'মোচা' পুনরুদ্ধার করেছে এবং সৌদি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ 'বাব-আল-মান্দেব' প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিয়াদের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি অবকাঠামো ও ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোচা বন্দর পুনরুদ্ধারের ফলে ওই পথে ঝুঁকি কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি দূর হয়নি; সেখানে লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং জাহাজে হামলার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। ট্রেডারদের জন্য এর অর্থ হলো, নতুন কোনো হামলা হলে দ্রুতই ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিজনিত কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাবে।
আজযুক্তরাষ্ট্রের 'এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন'-এর স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাস প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যেখানে শীতকালীন মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হবে। সামগ্রিকভাবে টানটান পরিস্থিতি এবং তেলের দর রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে ডিজেল ও হিটিং ফুয়েলের (ঘর গরম করার জ্বালানি) সরবরাহ কেমন হবে, তা এই প্রতিবেদনে জানা যাবে। গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প খরচ কমানোর লক্ষ্যে কর-মুক্ত ডিজেল ব্যবহারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত ছিল এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে নেওয়া হলো—যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সময়।
আমার মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আরামকোর মূল্য কম রাখার নীতির কারণে আগামী সেশনগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর মোটামুটি $98–$103-এর মধ্যে ওঠানামা করবে এবং কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে। তবে হরমুজ বা বাব-এল-মান্দেব প্রণালী কিংবা সৌদি আরবের অবকাঠামোয় কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে ব্রেন্টের গ্রেডের তেলের দর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই $105 ছাড়িয়ে যাবে—আর যতক্ষণ এই ঝুঁকি বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ কারেকশনের প্রভাবে দরপতনের সম্ভাবনা সীমিতই থাকবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $96-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $100 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $83 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।