শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কেভিন ওয়ার্শের আগের রাতের বক্তব্য; তিনি এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে ফেডারেল রিজার্ভ প্রত্যাশার চেয়ে আরও আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াতে পারে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার ফলে ট্রেডাররা ধারণা করে নিয়েছিল যে ফেডারেল রিজার্ভ হয়তো মুদ্রানীতি আরও কঠোর করবে। তবে ওয়ার্শের মন্তব্যে মুদ্রানীতিতে বাড়তি কঠোরতা আরোপের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আমাদের মতে, মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির পেছনে যে কারণগুলো ছিল, তার অধিকাংশই এখন নিঃশেষ হয়ে গেছে। টেকনিক্যাল দিক থেকে দেখলে, বিভিন্ন টাইমফ্রেমের চার্টই এখন এই পেয়ারের আরও মূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ক্ষেত্রে, ঘন্টাভিত্তিক চার্টে গত তিন সপ্তাহ ধরে কোনো বড় মুভমেন্ট দেখা যায়নি, আর দৈনিক ও সাপ্তাহিক চার্টে প্রায় এক বছর ধরেই এই পেয়ারের নির্দিষ্ট সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই তিনটি চ্যানেলেরই লোয়ার বাউন্ডারি থেকে লিকুইডিটি সরে যাওয়ার ফলে যে বাউন্স গঠিত হয়েছে, তা এই নতুন মূল্য বৃদ্ধির সূচনা করেছে—যা হয়তো দীর্ঘস্থায়ী একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সূচনা হতে পারে।

শুক্রবার 5-মিনিটের চার্টে, চারটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। রাতের বেলা, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যা ট্রেডারদের লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দেয়। দিনের প্রথমার্ধে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 জোন অতিক্রম করে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলব্যাক করে, যা আবারও লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি করে। দিনের শেষভাগে, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়ার নিচে নেমে এসে ক্লোজ হয়; তবে এই শেষ সিগন্যালটি কাজে লাগিয়ে ট্রেডিং করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল, কারণ তখন মার্কেট বন্ধ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের মাসব্যাপী নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তির কার্যকর সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় শুরু হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়ার উপরে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না, তাই দিনের বেলায় মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো তেমন কিছু থাকবে না। মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে, তবে পাউন্ডের ক্ষেত্রে আরও মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।