আজ স্বর্ণের দরপতন ঘটেছে এবং তা আবারও প্রতি আউন্স $4,000-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। রুপার দর 1.1% কমে $53.86-এ নেমে এসেছে; এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও হ্রাস পেয়েছে। ট্রেডারদের সতর্কতা মনোভাবের কারণটি
আজ স্বর্ণের দরপতন ঘটেছে এবং তা আবারও প্রতি আউন্স $4,000-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। রুপার দর 1.1% কমে $53.86-এ নেমে এসেছে; এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও হ্রাস পেয়েছে।
ট্রেডারদের সতর্কতা মনোভাবের কারণটি বেশ স্পষ্ট। আজ রাতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়া হবে এবং বিশ্লেষকরা মোটামুটি নিশ্চিত যে, এবার কোনো পরিবর্তন আনা হবে না (অর্থাৎ সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে)। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতো, কিন্তু ট্রেডাররা আগেই ধরে নিয়েছেন যে চলতি বছরের পরবর্তী সময়ে সুদের হার বাড়ানো হবে—যা আগের প্রভাবটিকে প্রশমিত করে দিচ্ছে। এই বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম, অথচ ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই ধরে নিয়েছে যে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানো হবে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন: তাকে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, ফেডারেল রিজার্ভ এখনও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর—যা মূলত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
আজ জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কেটে সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারিত হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে—এমন খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে প্রায় $115-এ পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যেখানে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য স্বর্ণের জন্য প্রতিকূল; কারণ তেল, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের মূল্যের বড় ধরনের ও দীর্ঘস্থায়ী উত্থান ঘটা কঠিন হবে। এছাড়া, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপক সূচক—পিসিই প্রাইস ইনডেক্স—প্রকাশ করা হবে। আগস্ট মাসে এই সূচকের হার বার্ষিক ভিত্তিতে 3.4% (সামগ্রিক) এবং 3.0% (কোর পিসিই) ছিল; যদি এবারের পরিসংখ্যান এই হার ছাড়িয়ে যায়, তবে তা মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
স্বর্ণের সাম্প্রতিক দরপতন মূলত টেকনিক্যাল কারণে হয়েছে। গত সপ্তাহে এই মূল্যবান ধাতুটির দর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে; কারণ এআই খাত সংশ্লিষ্ট স্টকের দরপতনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে দেন। জেপি মরগান প্রাইভেট ব্যাংকের মতে, সুদের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে স্বর্ণের দর স্থিতিশীল হবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং $4,000-এর নিচে স্বর্ণের জন্য খুব সামান্যই টেকনিক্যাল সাপোর্ট অবশিষ্ট আছে।
চাহিদা থাকার কারণে বড় ধরনের ধস আপাতত ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। গত দুই মাস ধরে চীনের পরিবারগুলো স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার সুযোগে আরও বেশি স্বর্ণ কিনছে; এর কারণ হলো স্বর্ণের মূল্য কিছুটা কমেছে এবং দেশটির স্টক মার্কেটের প্রতি আকর্ষণ হ্রাস পেয়েছে। স্বর্ণের দর আউন্স প্রতি $4,000-এর নিচে নেমে এলে সরাসরি ক্রেতা এবং কম দামে কেনার সুযোগ খোঁজেন এমন ব্যক্তিরা দরপতন থামাতে সহায়তা করেছেন।
তবে স্বর্ণের মূল্যের দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস, মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাস, মার্কিন ডলারের দরপতন এবং বন্ডের ইয়েল্ড বা মুনাফার হার হ্রাস—এই সবকটি পরিস্থিতির সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমানে এর কোনোটিই বিদ্যমান নেই। আমার ধারণা, আজ স্বর্ণের ওপর চাপ বজায় থাকবে এবং এটির মূল্য সম্ভবত পুনরায় $4,000-এর লেভেল টেস্ট করবে—বিশেষ করে যদি ওয়ার্শ মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন এবং ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশাকে নিশ্চিত করেন। থিন মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য এই লেভেলের নিচে নেমে গেলে তা আরও বড় দরপতনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে; যদিও চীনের চাহিদা সম্ভবত বড় ধরনের ধস নামতে দেবে না। আমার মতে, জ্বালানি তেলের মূল্য $110-এর নিচে নেমে গেলে এবং বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ কমতে শুরু করার পরই কেবল স্বর্ণের মূল্যের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,062-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,124-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,192 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,000 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $3,954-এ নেমে যেতে পারে ও পরবর্তীতে সম্ভবত $3,906 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।