বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার অধিকাংশই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ ইতিবাচক পূর্বাভাস দেয়া
বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার অধিকাংশই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ ইতিবাচক পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে—সূচকটি প্রায় 3.2%-এ পৌছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকৃত ফলাফল এর চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে, তবে পূর্বাভাসগুলো আশাব্যঞ্জক। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোর পিসিই মূল্য সূচকও প্রকাশিত হবে; ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের এই মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপক সূচকটি সেপ্টেম্বর মাসে বার্ষিক ভিত্তিতে সামান্য বেড়ে প্রায় 3.1%-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমাদের মতে, এই সপ্তাহে পিসিই সূচকের ফলাফল মার্কেটে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না, কারণ গতকালই ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে ট্রেডারদের প্রত্যাশায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে এবং এমনকি তারা মার্চ মাসে আরও একবার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এখন আর কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়; তাছাড়া গত দুই মাস ধরেই মার্কিন ডলারের দর ক্রমাগত বাড়ছে।

বৃহস্পতিবারের প্রধান ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক এবং ক্রিস্টিন লাগার্দের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং কেভিন ওয়ার্শের মন্তব্যগুলো ট্রেডাররা কার্যত উপেক্ষা করেছে—যদিও এখনই এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি। আমাদের ধারণা, কেভিন ওয়ার্শ যদি আরও হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতেন, তবে গতকাল মার্কেটে আরও জোরালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারত; কিন্তু ট্রেডাররা আগেই সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের বেশিরভাগই বিবেচনা করেছিলেন। আজ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে অবস্থানই গ্রহণ করুক না কেন, বাস্তবে তা ইউরোর মূল্যের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। গত দুই মাস ধরে ইউরো ক্রমাগত দরপতনের শিকার হচ্ছে, অথচ এর মাঝে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতাও দেখা যায়নি। এই দরপতন তখনই থামবে, যখন ট্রেডাররা নিজে থেকে মনে করবে যে নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। এর আগে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুইবার আর্থিক নীতিমালা কঠোর করলেও, মার্কেটে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ প্রতিকূল রয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেটি কবে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা গেলে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ অবসানের চেয়ে এই পরিস্থিতিটিই বেশি সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও, ইউরোপের অনেক দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যা ইউরোর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারছে না।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকায় ও ইসিবির বৈঠক নির্ধারিত হওয়ায় উভয় কারেন্সি পেয়ারের সক্রিয় ট্রেডিং দেখা যেতে পার। আজ EUR/USD পেয়ার 1.1132–1.1140 এরিয়ায় এবং GBP/USD পেয়ার 1.3319–1.3331 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আমাদের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, ইউরো এবং পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; যদিও মার্কেটে অনিশ্চিত পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।